• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
Headline
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে হাজারো মানুষের আশার আলো হয়ে উঠল ক্ষুদে যোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

চারুমতি ফিরল বাবা-মায়ের কোলে
অবশেষে প্রায় দুই মাসের নিবিড় বিশেষায়িত চিকিৎসা শেষে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে থেকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরল চারুমতি। ছবি : সংগৃহীত

যা একসময় প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল, তা আজ পরিণত হয়েছে আশা, অদম্য মানসিক শক্তি এবং আধুনিক নবজাতক চিকিৎসার এক অনন্য সাফল্যের গল্পে। মাত্র ২৬ সপ্তাহের গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেওয়া এবং জন্মের সময় যার ওজন ছিল মাত্র ৬০০ গ্রাম— সেই শিশু চারুমতি অবশেষে প্রায় দুই মাসের নিবিড় বিশেষায়িত চিকিৎসা শেষে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে থেকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।
পাবনায় জন্ম নেওয়া যমজ সন্তানের মধ্যে বড় চারুমতির জীবনের শুরুটাই ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জন্মের সময়ই তার যমজ ভাই মারা যায়, যা পুরো পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দেয়। এরপরপরই চারুমতিকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ ভর্তি করা হয়, যেখানে শুরু হয় তার বেঁচে থাকার অদম্য লড়াই।
অসংখ্য প্রতিকূলতা ও অত্যন্ত ক্ষীণ সম্ভাবনার মধ্যেও চারুমতি অসাধারণ সাহস, ধৈর্য এবং বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তির পরিচয় দিয়েছে। নবজাতক বিশেষজ্ঞ, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক দলের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সে নিবিড় চিকিৎসাসেবা পেয়েছে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময় চারুমতির ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬০ গ্রাম, যা তার অনুপ্রেরণাময় যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদিও আগামী দিনগুলোতে তার নিয়মিত ফলো-আপ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হবে, তবুও হাসপাতাল থেকে তার সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরা পরিবার এবং চিকিৎসক দলের জন্য এক অসাধারণ অর্জন।
এই আনন্দঘন মুহূর্ত উদ্‌যাপন করতে ল্যাবএইড হাসপাতাল এক আন্তরিক ও আবেগঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমদ দাউদ, এফ সি এ, এফ সি এম এ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আজমেরী সুলতানা চৌধুরী এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মরিয়ম ফারুকী (স্বাতী)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, নার্স এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। কেক কাটার পর চারুমতির বাবা-মা এর হাতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহারও তুলে দেওয়া হয়। চারুমতির বাবা- মা ল‍্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেবা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন‍্য ধন‍্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
চারুমতি আরও একটি ইতিহাসের অংশ হয়েছে। ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) ইউনিটে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী প্রথম শিশু সে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই পরিচর্যা পদ্ধতিতে মা ও শিশুর দীর্ঘ সময় মায়ের সংস্পর্শ, মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা এবং নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এই পদ্ধতি অপরিণত এবং কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ও সুস্থ বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
চিকিৎসকরা বলেন, চারুমতির সুস্থ হয়ে ওঠা দেশের চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা, আধুনিক নবজাতক চিকিৎসা পদ্ধতি, ল‍্যাবএইড হাসপাতালের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সহায়তা এবং বাবা-মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অবিচল ধৈর্য আর অদম‍্য মানসিক শক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
অবশেষে যখন চারুমতি সুস্থভাবে বাবা-মায়ের কোলে ফিরে এল, তখন এই উদ্‌যাপন শুধু একটি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ঘটনাই ছিল না; এটি ছিল আশার প্রত্যাবর্তন, জীবনের জয় এবং সবচেয়ে ছোট্ট যোদ্ধার মধ্যেও লুকিয়ে থাকা অসীম শক্তির এক অনন্য প্রতীক। চারুমতির এই অনুপ্রেরণাময় যাত্রা একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া অসংখ্য পরিবারের জন্য আশার বার্তা হয়ে থাকবে এবং প্রমাণ করবে— সহানুভূতিশীল সেবা, আধুনিক চিকিৎসা এবং অটল সংকল্প একসঙ্গে থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category