রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সেনাবাহিনীর জনবল সংকট, সামরিক কাঠামোর সংস্কার এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ড্রোনযুদ্ধের মতো বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার (২২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতিকে দেশটির শীর্ষ সামরিক পদে নিয়োগ দেন। তিনি ওলেক্সান্দর সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সিরস্কির নেতৃত্ব নিয়ে সেনাদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।
দ্রাপাতি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে একজন অভিজ্ঞ মাঠ কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে দেশটির স্থলবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাদের কাছে তার কৌশলগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও সততার জন্য গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তবে নতুন দায়িত্বে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেনাবাহিনীর জনবল সংকট মোকাবিলা করা। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীতে সেনা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাকে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।
এদিকে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি কিছুটা ধীর হলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রাপাতিকে শুধু যুদ্ধ পরিচালনা নয়, সামরিক ব্যবস্থাপনায়ও বড় পরিবর্তন আনতে হবে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পুরোনো ধাঁচের নেতৃত্বের সংস্কৃতি দূর করাও তার অন্যতম দায়িত্ব।
কিয়েভের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক মাইকোলা বিলিয়েস্কভ বলেন, দ্রাপাতির নিয়োগ সেনাবাহিনীর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বিশাল যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনা এবং সামরিক কাঠামোর সমন্বয় করা তার জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
এর আগে ইউক্রেনের স্থলবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন দ্রাপাতি। রুশ হামলায় প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে প্রাণহানির পর তিনি দায়িত্বের দায় স্বীকার করে পদ ছাড়েন। তখন তিনি সেনাবাহিনীর পুরোনো নেতৃত্ব কাঠামো ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রাপাতির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ইউক্রেনীয় সেনাদের মনোবল বাড়াতে পারে। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাবে না। জনবল সংকট, অস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার অব্যাহত চাপ মোকাবিলাই হবে ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।