জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নওগাঁর মান্দায় উদ্যোগ নিয়েছে দাবী মৌলিক উন্নয়ন সংস্থা। উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৮০টি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ড্রট’ (ইসিসিসিপি-ড্রট) প্রকল্পের আওতায় নেওয়া এ কর্মসূচিতে নিম, জলপাই, আমড়া, কাঁঠাল ও কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের রেবা আখতার আলিম মাদ্রাসায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আতিয়া খাতুন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে — তীব্র খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে; প্রত্যেকে অন্তত পাঁচটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইসিসিসিপি ড্রট প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুধু বৃক্ষরোপণ নয় — বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় একাধিক কার্যক্রম একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত পুকুর ও খাল পুনঃখনন, ম্যানেজড অ্যাকুইফার রিচার্জ (এমএআর) কার্যক্রমের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ, কৃষকদের মধ্যে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উপকরণ বিতরণ এবং গ্রামীণ নারীদের বসতবাড়িতে সবজি চাষে সহায়তা প্রদান।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি, সংস্থার কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দাবী মৌলিক উন্নয়ন সংস্থার পশ্চিম জোনের জোনাল ম্যানেজার আনিছুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহায়মিনুল ইসলাম ও রুমেলা খাতুন,রেবা আখতার আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর, সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও সাংবাদিক মাহবুবুজ্জামান সেতুসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য,দাবী মৌলিক উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃপক্ষ জানান,গত বছরের ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ৭ হাজার ৪২০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল নিম, সফেদা, অর্জুন, মিষ্টি আমড়া ও জলপাই। পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে। চারা রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করে বড় গাছে পরিণত করতে পারলে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রেখেছে সংস্থাটি।