• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ অক্টোবর) স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

ইউরোপে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

  • দিন দিন চ্যালেঞ্জ বাড়ছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) ইইউ অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরো। বাজারে অর্ডারের ঘাটতির চেয়ে পণ্যের উপযুক্ত দাম না পাওয়াই এই ধসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট ৬০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৬২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ইউরোর তুলনায় ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।

এ সময়ে আমদানি করা পোশাকের ওজন কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় আমদানি মূল্য ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৯১ ইউরো থেকে ১৯ দশমিক ৬৫ ইউরো হয়েছে।বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে রপ্তানির মূল্য কমার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে পোশাকের একক মূল্য হ্রাস।

প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে নেমেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুধু পরিমাণগত হ্রাস নয়, বরং প্রতি কেজি পোশাকের কম মূল্যও রপ্তানি আয় কমার অন্যতম প্রধান কারণ। রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম হারে কমলেও একক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আগস্ট মাসের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইইউতে পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ।

এ সময়ে ইইউতে আমদানির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমলেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে মাসটিতে মোট আমদানি মূল্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।ইইউর বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনই একমাত্র দেশ, যার রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ-দুটিই বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির মূল্য ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। যদিও দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে, প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি মূল্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চীন ও ভিয়েতনামের বিপরীতে ইইউর অধিকাংশ প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশের রপ্তানি মূল্য কমেছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে, তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা এবং কম দামে পোশাক বিক্রির প্রবণতা বন্ধে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। উদ্যোক্তারা যখন ইউডি গ্রহণের জন্য আবেদন করবেন, তখন কনজাম্পশনের পাশাপাশি পণ্যের উৎপাদনে কত খরচ হচ্ছে-তার বিবরণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। শিট পর্যালোচনা করে যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে অর্ডার গ্রহণ করেছে, তবে তাদের ইউডি অনুমোদন দেওয়া হবে না। এর ফলে দেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের সঠিক মূল্য আদায় করা সহজ হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category