• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ওসমান হাদিকে টার্গেট করেছিল দিল্লি : মাসুমা হাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫ Time View
Update : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

মাসুমা হাদি। ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে দিল্লি, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, তথাকথিত সুশীল সমাজ ও পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতিবিদরা টার্গেট করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তার অভিযোগ, ওসমান হাদির লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন আধিপত্যবাদী শক্তি এবং পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। এ কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ১৭ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মাসুমা হাদি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ওসমান হাদির পরিচিতি বাড়তে থাকলে তার সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা তাকে সতর্ক থাকতে বলতেন। তাদের কেউ কেউ ওসমান হাদিসহ আরও দুজনকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে মাসুমা হাদির দাবি, অন্যদের তুলনায় তার ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান ও চিন্তাধারা তাকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।
মাসুমা হাদি লেখেন, রাজপথে স্লোগান দেওয়া কিংবা টেলিভিশনের টক শোতে কথা বলার চেয়ে ওসমান হাদির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই ছিল ভিন্ন মাত্রার। তার ভাষ্য, ২০২২ সাল থেকেই ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। বিশেষ করে আধিপত্যবাদ বিরোধী লেখালেখি এবং ‘রজঃস্রাবের রাষ্ট্র’ শিরোনামের লেখা প্রকাশের পর তার উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
পোস্টে মাসুমা হাদি আরও দাবি করেন, ভাইয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ জন্য ওসমান হাদিকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ওসমান হাদির পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে আবু সাঈদের মৃত্যুসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে পড়াশোনার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি।
মাসুমা হাদির দাবি, ওসমান হাদির সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিল্লি এবং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল। তার অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে তাকে হত্যা করা ছাড়া প্রতিপক্ষের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
ভাইকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে মাসুমা হাদি লেখেন, ছোটবেলা থেকেই ওসমান গনিকে নিয়ে তার নানা আশঙ্কা ও ধারণা ছিল। তবে এত অল্প বয়সে তাকে হত্যা করা হবে, তা ভাবতে পারেননি। তার বিশ্বাস ছিল, ভাই আরও অন্তত পাঁচ বছর বেঁচে থেকে দেশে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারবেন।
পোস্টের শেষাংশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তার মৃত্যুর পর তাকে জনমানস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে জড়িতদের শাস্তি কামনা করেন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে ভাইয়ের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দিল্লি, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য পক্ষের বিরুদ্ধে মাসুমা হাদির এসব অভিযোগ তার ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে যাচাই করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category