• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তীতে বিপ্লবী যুব সংহতির আলোচনা সভায় সাইফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩১ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক কুটকৌশলের অবকাশ নেই।
জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাংগ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে।
দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জুলাই জাতীয় সনদ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে হবে।
বিদ্যমান ঐকমত্য অক্ষুণ্ণ রেখে জুলাই সনদ ধারণ ও বাস্তবায়ন করাই হবে বিএনপির প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয়।

আজ সকালে বিপ্লবী যুব সংহতির আলোচনা সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক কুটকৌশলের কোন অবকাশ নেই। জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে। এই অংগিকার থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোন প্রশ্ন নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বিপ্লবী কোন চার্টার নয়, সংবিধান বা রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কোন দলিলও নয়। জুলাই সনদ নিয়ে অতি রোমান্টিক কোন ভাবালুতা বা অতি বিপ্লবীপনা দেখানোরও কোন সুযোগ নেই।কারণ সংস্কারের সমগ্র আলোচনাই বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতে; ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী গত দুই বছর দেশ ও সরকার চলছে এই সংবিধানের ভিত্তিতেই।
তিনি বলেন, বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিহীন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে খানিকটা গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করতেই, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিসর বাড়িয়ে তুলতেই জুলাই সনদ প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি জুলাই সনদ স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, জুলাই সনদ দেশে একটি গনতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যের সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুযোগ তৈরী করেছে।
তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি তার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।

আজ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে
বিপ্লবী যুব সংহতির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে তা দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন হতে পারত। কিন্তু বিএনপি কেন সেই সুযোগ গ্রহণ করল না, তার কোনো যুক্তিসংগত ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা জনগণের সামনেও তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না, মৌলিক সংস্কার চায় না – এমনতর প্রচারণা জোরদার হয়েছে ; যে কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থান নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তিও তৈরী হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে বিএনপি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখন যা করছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাতে সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে অন্যদের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, এখন অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
সাইফুল হক আশংকা প্রকাশ করে বলেন, সংসদের বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে যথাসম্ভব
রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিপ্লবী যুব সংহতির আহবায়ক আওয়াল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রতিনিধিত্বকারী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, বিপ্লবী যুব সংহতির যুগ্ম আহবায়ক তুহিন রহমান, সংগঠনের ঢাকা উত্তরের সদস্যসচিব আহমেদ রনি, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিফুল ইসলাম, লোকমান হোসেন প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category