• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের আমা দাবলাম অভিযানে ইয়াসমিন লিসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২০ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম ‘সুলতানা’স ড্রিম’ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পর্বতারোহণবিষয়ক সংগঠন ‘অভিযাত্রী’। ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত’ স্লোগানকে সামনে রেখে নেপালের হিমালয়ে মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহী ইয়াসমিন লিসা। এ উপলক্ষে সোমবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানের উদ্দেশ্যে সোমবারই ঢাকা ছেড়েছেন ইয়াসমিন লিসা। অভিযান শেষে আগামী ১০ নভেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার বলেন, ‘নেপালের খুম্বু অঞ্চলে অবস্থিত ৬ হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আমা দাবলাম আরোহণ করবেন ইয়াসমিন লিসা। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং আরোহণপথের জন্য আমা দাবলাম পর্বতারোহীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই পর্বতে আরোহণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দলগত সমন্বয়।’

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘পর্বতারোহণের মতো কঠিন শারীরিক চ্যালেঞ্জ জয় করার পাশাপাশি নারীদের সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাও অতিক্রম করতে হয়। রক্ষণশীল মানসিকতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পেরিয়ে তাঁদের এগিয়ে যেতে হয়। অতীতেও বেগম রোকেয়ার মতো অগ্রগণ্য নারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, যার প্রতিফলন এখনো সমাজে রয়েছে।’

অভিযান প্রসঙ্গে ইয়াসমিন লিসা বলেন, ‘যারা পাহাড় সম্পর্কে জানেন, তারা আমা দাবলামের সৌন্দর্য ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। পাহাড়টি একই সঙ্গে ভীষণ সুন্দর ও বিপজ্জনক। তবু নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এই অভিযান সফল করার আশা রাখছি।’

সমাজ একসময় যেসব কাজ নারীদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করত, সেসব কাজ করে দেখানোর স্বপ্ন দেখেন বলেও জানান ইয়াসমিন লিসা। সেই স্বপ্ন ধারণ করে আমা দাবলামের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে চান তিনি।

ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রুমানা হাবিব বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা নানা সামাজিক ও ব্যক্তিগত বাধা অতিক্রম করে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারেন, “সুলতানার স্বপ্ন” তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সমাজের সহযোগিতা পেলে নারীরা সব বাধা অতিক্রম করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জারিন মাহমুদ হোসেন এবং ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাসনুভা আহমেদ। নারীদের নিয়ে গঠিত এ বিশেষ পর্বতাভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রিজিওনাল রেজিস্টার ফর এশিয়া প্যাসিফিক’ তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘সুলতানা’স ড্রিম’। ‘সুলতানা’স ড্রিম’–সম্পর্কিত দলিল, তথ্য ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। বর্তমানে ‘সুলতানার স্বপ্ন’কে কেন্দ্র করে গ্রন্থপাঠ, সৃজনশীল পাঠ ও কার্যক্রম এবং কর্মশালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে নিশাত মজুমদার বলেন, ‘বেগম রোকেয়া এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে নারীরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দেবে। তাঁর সেই স্বপ্ন আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, প্রশাসন, ব্যবসা ও নানা পেশায় নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে নেই। সেই অগ্রযাত্রাকে আরও বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রজন্মের মেয়েদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশের মেয়েরা পর্বতারোহণকে শুধু একটি দুঃসাহসিক খেলা হিসেবে নয়, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও নিজের সক্ষমতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার করবে। ইয়াসমিন লিসার এই অভিযান সেই বৃহত্তর স্বপ্নেরই একটি অংশ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category