• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘মোদি এইমাত্র জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক করে ফেলেছেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২৯ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

ফাইল ছবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনের নেতারা।

ককরোচ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদি এইমাত্র জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক করে ফেলেছেন। তার দাবি, ভয় দেখিয়ে তরুণদের আন্দোলন থামানো যাবে না।

দীপকে লেখেন, এই ভয় দেখানোর কৌশল কাজে দেবে না। দেশের তরুণরা আর আপনাকে ভয় পায় না।

ভারতে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ওই সময় নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা, সংবাদমাধ্যমে সেন্সরশিপ আরোপ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাবন্দি করার ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা টানায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের চেষ্টার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে জনগণকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কঠোর পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেও তরুণদের অনেকে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

দিল্লির কনট প্লেসের বাইরের সড়কে কাজ করা ২৯ বছর বয়সি পরিচ্ছন্নতাকর্মী সন্তোষ কুমার বলেন, পুলিশের ব্যারিকেডে কিশোর-তরুণদের আটক হতে দেখে তিনি হতাশ।

তিনি আরও বলেন, আপনি এসব ছেলেমেয়েকে কীভাবে থামাবেন? ১০ জনকে আটক করা হচ্ছে, আরও ৫০ জন আসছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই মোদি ক্ষমতায় থাকবেন না- এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে সন্তোষ বলেন, সেসব দেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতেও তরুণদের নিজেদের দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

অন্যদিকে ২৮ বছর বয়সি প্রকৌশলী সমীর ইরশাদ তার ৫৭ বছর বয়সি মা শিবা আবদিকে হুইলচেয়ারে নিয়ে কনট প্লেসের একটি ব্যারিকেডের কাছে পৌঁছান।

শিবা আবদি বলেন, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি।

তার প্রশ্ন, সরকার রাজধানীকে দুর্গে পরিণত করেছে কেন? আমার মতো সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে তারা এত ভয় পাচ্ছে কেন?

জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঠেকানোর তৎপরতা শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ২৪ বছর বয়সি আরিফ নামে এক ছাত্রনেতা জানান, দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তার বাড়িতে যায়। তিনি স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার জেলা পর্যায়ের একজন সমন্বয়ক।

আরিফের দাবি, গভীর রাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তার দরজায় আঘাত করতে থাকেন এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চান। এরপর থেকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারিতে তাকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তার অভিযোগ, দিল্লিতে যেতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানোর এবং ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আরিফ বলেন, তিনি দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্র ‘ফিরিয়ে আনার’ লড়াইয়ে থাকতে চেয়েছিলেন।

সিজেপির বর্তমান আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভোটার ডেটাবেসে চলমান পরিবর্তনের স্বচ্ছতা নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের উদ্বেগকে জ্ঞানেশ কুমার উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category