• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ চাঁদা না দেওয়ায় মারধর, অতঃপর চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২২ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত
চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার হয়ে উল্টো চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাজধানীর মিরপুরের এক লেগুনা মালিক নেতা। তার দাবি, চাঁদার দাবিতে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াকুব আলী। এ সময় তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকুব আলী জানান, ৫ অক্টোবর সকালে তার লেগুনার এক চালক গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে প্রতিটি গাড়ি থেকে জোরপূর্বক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এতে প্রতিবাদ করলে তাকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুই লেগুনা মালিককে বেধড়ক পেটানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকিও দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সমস্ত দৃশ্য আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছে। মারধরের পর তাকে উল্টো চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে দারুস সালাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে আদালতে পাঠানো হলেও পুলিশের দাখিল করা অভিযোগে চাঁদাবাজির কোনো তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির পরদিন থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। পরবর্তীতে তিনি বাধ্য হয়ে মিরপুর অঞ্চলের পুলিশের উপকমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
তবে মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি থানায় অভিযোগ নিয়ে এলে সুনির্দিষ্ট ও শক্ত ভিত্তি না থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী পরিচয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র মিরপুর-১ এলাকার মোট পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার জন্য মালিকদের প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনার পেছনে বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকর্মীও রয়েছেন।
সাইদুর রহমানের আরও অভিযোগ, কেবল লেগুনা স্ট্যান্ডই নয়; মিরপুর-১ এলাকার কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ির স্ট্যান্ড এমনকি বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল স্ট্যান্ডগুলোতে অবস্থান নেয় এবং কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে সাধারণ মালিক ও শ্রমিকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সোলেমান দেওয়ান দাবি করেন, এই মারধরের ঘটনার সঙ্গে তার দূরতম কোনো সংযোগ নেই। একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পরিকল্পনা থাকায় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, লেগুনা শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জের ধরেই মূলত এই মারামারির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি শুনেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। রাজনৈতিক কাজের কারণে তার অনুসারী বা কর্মী থাকতে পারে, তবে লেগুনা ব্যবসা বা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসাজশ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category