তাফসিরের কিতাবে এসেছে, মুশরিকরা তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে, উলঙ্গ অবস্থায় পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে চলে আসত।
৩. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানত আজান ও প্রথম কাতারে কী সওয়াব রয়েছে, আর লটারি ছাড়া তা পাওয়ার উপায় না থাকত, তবে তারা অবশ্যই লটারি করত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৫)
প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর আগ্রহ আসলে আল্লাহর ঘরের প্রতি ভালোবাসারই প্রকাশ। তাই সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য নামাজের সময়গুলোতে মসজিদে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
৪. প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রবেশ করা : মসজিদের ভেতর জোরে হাঁটা, দৌড়াদৌড়ি করা অনুচিত। হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন নামাজ শুরু হয়ে যায়, তখন দৌড়ে গিয়ে নামাজে যোগদান করবে না; বরং হেঁটে এসো, ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা তোমাদের জন্য আবশ্যক। (বুখারি, হাদিস : ৯০৮)
তা ছাড়া শরীর হাঁপিয়ে উঠলে মনও অস্থির থাকে; আর অস্থির মন নিয়ে খুশু অর্জন করা কঠিন।
৫. মসজিদে প্রবেশের সুন্নাহ আদায় ও দোয়া পড়া : মসজিদের প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ পড়া, দরুদ শরিফ ও দোয়া পড়ে ডান পা আগে বাড়িয়ে প্রবেশ করা সুন্নত। তারপর ইতিকাফের নিয়ত করে বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা সুন্নাহ। এমনিভাবে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ, দরুদ ও দোয়া পড়া সুন্নত। তারপর ডান পা বাড়িয়ে বের হওয়া এবং ডান পায়ে আগে জুতা পরিধান করা সুন্নত। মসজিদের আদব রক্ষা করা মসজিদের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শনের অন্যতম লক্ষণ।
এই আন্তরিকতা মুমিনের জন্য এতটাই উপকারী যে কিয়ামতের কঠিন দিনেও এর সুফল পাওয়া যাবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন, যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ নিজের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন; তাদের একজন হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ঘরের আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।