• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
Headline
মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৮ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছবি : রয়টার্স
চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭টি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন যদি তাদের এসব দাবি প্রত্যাখান করে, তবে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত থাকারও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, কাতার ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং তেহরান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

শর্তগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।’

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রেজাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা শুরুর জন্য ইরান তার ৭টি শর্ত স্পষ্ট করেছে। তেহরানের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন।

ওয়াশিংটন যদি নিজের তৈরি করা গোলকধাঁধা থেকে বের হতে চায় এবং আরও বড় বিপদে পড়তে না চায়, তবে ইরানের অধিকার ও শর্তাবলি মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।আল জাজিরাকে রেজাই আরো বলেন, ‘এই শর্তগুলো মেনে নেওয়াই ওয়াশিংটনের স্বার্থে ভালো হবে। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না, আমরা যে কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য শতভাগ প্রস্তুত।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কাতার ও পাকিস্তান।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়, তা অবসান ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও।ইরানি সামরিক বাহিনীর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে রেজাই জানান, মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আবারও বিমান হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তেহরান যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং আগের দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর তাদের সামরিক পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইরানি নিরাপত্তা প্রধান বলেন, পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের বর্তমান সামরিক কৌশল সাজানো হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজ বা বিমানবাহী রণতরীর কাছে একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত একটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাই হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক ও ভয়াবহ। সে ক্ষেত্রে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজাই বলেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে যুদ্ধ এখনো চলছে।’ তবে যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের ইতি টানতে তেহরান কৌশলগতভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে রেজাই জানান, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো তেহরান নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ ইরানকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার (ফতোয়া) বিধান তারা এখনো মেনে চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category