জামায়াতের হঠকারিতার কারণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসার পথ তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করছেন না, বরং আপনারা পদে পদে বুঝে বা না বুঝে হঠকারিতা করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসার পথ আবিষ্কার করছেন।’
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে সংকট সমাধানে কাজ করছে। এই সংকট সরকারের সৃষ্টি নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দীনের দুই বছরের সংকট ও অব্যবস্থাপনা, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের সময়ের সংকট, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সমস্যা ও অব্যবস্থাপনা মিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের সমস্যা বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। রাতারাতি এই সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা থেকে রংপুরে জামায়াতের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই লংমার্চ নিয়ে রংপুরবাসীর কোনো আগ্রহ নেই।’ লংমার্চের কারণে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে এবং এতে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি মীমাংসিত বিষয়। নয় মাসের আলোচনার পর সনদে স্বাক্ষর হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।t
এসময় তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের পুরোটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে রাশেদ খাঁন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান ও পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমজিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।