• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিক বাঁচিয়ে রাখা যায় না, অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা ও রেশনিং চালুর দাবি সাইফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

“দেশের শ্রম পরিস্থিতি, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা” শীর্ষক আলোচনা সভায় জননেতা সাইফুল হক
সংসদে বা বিরোধী দলের লংমার্চে কোটি কোটি শ্রমিকের জীবন ও মজুরি সংকটের স্থান নেই।
শ্রমিকদের পেটে ভাত পুষ্টি নেই, অথচ পুরো শিল্প চেইন দাঁড়িয়ে আছে তাদের ঘামে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সাইফুল হক বলেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চ কিংবা সংসদে কোটি কোটি শ্রমিকের জীবন, জীবিকা ও মজুরি সংকটের কোনো স্থান নেই। নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা যায় না। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা ও সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি আয়োজিত ‘দেশের শ্রম পরিস্থিতি, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, পোশাকশিল্পসহ দেশের পুরো শিল্পশৃঙ্খল শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ শ্রমিকদের পেটে পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টি নেই। বর্তমান বাজারদরে ঢাকায় পাঁচ সদস্যের একটি শ্রমিক পরিবারের মানবিক জীবনযাপনের জন্য মাসে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবন ধারণ সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সচেতন শ্রমিক কখনো কারখানা ধ্বংস করতে চান না। কারণ কারখানা বাঁচলেই শ্রমিক বাঁচবেন। কিন্তু মালিকেরা ন্যায্য দাবি ও আন্দোলনের মুখোমুখি হলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ কিংবা সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে দমনপীড়ন চালানো হয়। দমনপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন থামানো যাবে না।
গার্মেন্টস খাতে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক যুক্ত থাকলেও তাঁরা মজুরি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমবাজারকে গুটিকয়েক ব্যক্তির একচেটিয়া মুনাফার হাতিয়ার বানাতে দেওয়া যাবে না।
সাইফুল হক বলেন, ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা ও সর্বজনীন রেশনিং চালু করতে হবে। পেশাজীবী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত জাতীয় মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। কেবল সেমিনার ও আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর বিজিএমইএ স্কুলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফয়েজ হোসেন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সংগঠক আর ইউ হাবিব প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলী।
আলোচনা সভায় বহ্নিশিখা জামালী বলেন, শ্রম আন্দোলন কেবল গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গৃহকর্মীসহ সব খাতের শ্রমিকেরাই আজ অবহেলিত। দেশের কোটি কোটি নিয়মিত শ্রমিকের পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন করে শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া ১৮ থেকে ২০ লাখ শ্রমিকের জন্যও পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয়, তা দিয়ে ২০ দিনও ভালোভাবে চলা কঠিন। অথচ সমাজের একটি অংশ অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক থাকলেও তাঁরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্য, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সমতাভিত্তিক ও অধিকারমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সব শ্রমিক সংগঠনের ঐক্যের মাধ্যমেই প্রকৃত অধিকার আদায় সম্ভব।
মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই নতুন প্রেক্ষাপটে দেশের সব খাতেই যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য সংকটে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ডলারের দর বৃদ্ধি, ব্যাংকিং জটিলতা ও বিভিন্ন নীতিগত সমস্যায় উদ্যোক্তারাও চাপে রয়েছেন। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকদেরম পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিল্প ও শ্রম খাতে চরম স্বীকৃতিহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিকের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই। বকেয়া মজুরির দাবিতে সড়ক অবরোধের মতো গুরুতর ঘটনাও এখন সংবাদমাধ্যমে যথাযথভাবে উঠে আসছে না, ফলে শ্রমিকদের সংকট আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের বঞ্চিত ও ঝুঁকির মধ্যে রেখে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category