• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশনকে ‘নাটক’ বললো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

  • দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ‘পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন’ কার্যকর করেছে। এতে উভয় দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কমিশনটির উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে যৌথ সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দিল্লি জানিয়েছে, অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি এই কমিশনের নেই। ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশনের প্রথম বৈঠকের পর নয়াদিল্লি এই প্রতিক্রিয়া এলো।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, যৌথ সীমান্ত কমিশন সংক্রান্ত বৈঠকটিতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সীমানা ও সমুদ্র বিষয়ক বিভাগ’-এর উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘চীন বিষয়ক বিভাগ’-এর মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে আরও নিবিড় সমন্বয়ের পথ প্রশস্ত করবে।

নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের যৌথ সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এই কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সহযোগিতাকেও জোরদার করবে; যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

নিয়মিত কারিগরি সমন্বয় ও জরিপ কার্যক্রম উভয় দেশকে সীমান্ত-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য বজায় রাখতে এবং সীমান্ত-বিষয়ক বিষয়গুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।

এদিকে ভারত বরাবরই বলে আসছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শাকসগাম উপত্যকার মতো কিছু ভূখণ্ড চীনের হাতে তুলে দেওয়া ছিল অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এরও বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। কারণ এর একটি অংশ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্য দিয়ে গেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অটল। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা এই তথাকথিত যৌথ কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তিই নেই।

তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ এই পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কখনোই ১৯৬৩ সালের তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’-কে স্বীকৃতি দিইনি এবং বরাবরই বলে এসেছি এটি অবৈধ ও অকার্যকর।

জয়সওয়াল বলেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অধিকৃত অঞ্চলগুলোর মর্যাদা পরিবর্তনের বা অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার আমরা দৃঢ় বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করি। ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো তথাকথিত সীমান্ত সহযোগিতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হবে এবং এসব ভূখণ্ডের ওপর ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাবই পড়বে না।

এ ধরনের নাটকীয়তায় লিপ্ত না হয়ে পাকিস্তানের কাছে অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলো খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category