স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুইডিশ সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটি জানায়, দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ২০ হাজারের মতো। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভোট গণনার পূর্ণাঙ্গ ফল বৃহস্পতিবারের আগে পাওয়া নাও যেতে পারে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেরসনও স্বীকার করেছেন, এখনো চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনো খোলা প্রশ্ন।
অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আন্দেরসন সমর্থকদের বলেছেন, প্রতিটি ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে তিনি দাবি করেন, ফলের এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠন করবে বিরোধী জোট।
নির্বাচনে সুইডেনের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা থাকলেও কয়েক দশকের মধ্যে এবার তাদের সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে। একই সঙ্গে ডানপন্থী জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক সুইডেন ডেমোক্র্যাটসও বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল থেকে তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটস প্রথমবারের মতো সরাসরি সরকারে যাওয়ার প্রত্যাশা করছিল। তবে ফলাফল অনিশ্চিত হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও এখন ঝুলে আছে। দলটি ২০২২ সালের পর থেকে বর্তমান ডানঘেঁষা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
এবারের নির্বাচনী প্রচার ছিল বেশ উত্তপ্ত ও বিভক্ত। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এবং অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছিল প্রচারের বড় অংশজুড়ে।
নির্বাচনে ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা, অভিবাসন ও অর্থনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েও দলগুলোর মধ্যে প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







