• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হামে শিশু মৃত্যু : অপুষ্টিতে ভুগছিল ৬৫ শতাংশ, পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি ৮২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৪ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই কোনো না কোনো মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছিল।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
চলতি বছরের মে মাস থেকে হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। তাদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়ার হার ৮২ শতাংশ।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।
গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি— এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের বা ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।
টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাই এই হার কেবল গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ওই ২১ শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কেন কিছু শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে শনাক্ত সব ভাইরাসই হামের বি৩ উপশাখার বলে জানা গেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শনাক্ত বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশনও শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category