• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
Headline
টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি

‘মানুষের বাসায় কাজ করে এই শার্টটাই ওর মা কিনে দিছিল, ওইটা পইরাই ও শহীদ হয়ে গেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

শহীদ হৃদয়ের বাবা

শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার রক্তমাখা শার্ট-প্যান্টের দিকে তাকিয়ে আছেন তার বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া। ছবি: সংগৃহীত

 দুপুরের আকাশে ঝুম বৃষ্টি, ক্যাম্পাসজুড়ে কোথাও বিদ্যুৎ নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) জাদুঘরে তখন অন্ধকার আর পিনপতন নীরবতা।

এর মধ্যেই হঠাৎ চোখে পড়ল জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলের ভেতর মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে কেউ একজন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার রক্তমাখা শার্ট-প্যান্টের দিকে। একটু পরেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি।

কান্নারত ব্যক্তিটি আর কেউ নন, শহীদ হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া। বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে চবি প্রশাসনের আমন্ত্রণে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করেই রতন চন্দ্র চলে যান বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে।

সেখানে কাঁচের ভেতরে সংরক্ষণ করা আছে হৃদয় তরুয়ার রক্তমাখা শার্ট ও প্যান্ট। এই পোশাক পরিহিত অবস্থাতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। কিছুক্ষণ নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকার পর কাঁপা কাঁপা হাতে কাঁচের ওপর হাত বুলিয়ে দেন বাবা রতন চন্দ্র। যেন ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে তার বুকের মানিক হৃদয়।

এরপর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে সেই অশ্রু। আর সেই অশ্রু যেন কাঁচের ওপাশে জমে থাকা রক্তের দাগের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখও অশ্রুসজল করে দেয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি রক্তমাখা শার্ট-প্যান্ট, অন্যদের কাছে কেবল জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত একটি নিদর্শন। কিন্তু সন্তানহারা এক বাবার কাছে এটি তার সন্তানের শেষ স্পর্শ, শেষ ঘ্রাণ, শেষ স্মৃতি আরও শেষ আলিঙ্গনের প্রতীক। তাই কাঁচের ভেতরে বন্দি সেই পোশাকের দিকে তাকিয়ে হয়তো বাবা খুঁজে ফিরছিলেন ছেলের মুখ, শোনার চেষ্টা করছিলেন তার কণ্ঠস্বর।

শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার রক্তমাখা শার্টের দিকে ইশারা করে অশ্রুসিক্ত রতন চন্দ্র তরুয়া বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ করে সেই টাকা দিয়ে এই শার্টটাই ওর মা ওরে (হৃদয়) কিনে দিছিল। ওই শার্ট পইরাই ও শহীদ হয়ে গেছে।’

কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রতন চন্দ্র তরুয়া। অস্ফুট স্বরে তিনি বলতে থাকেন, ‘আমি কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতাম। ওর মা মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করতো। আমরা সাধারণ পরিবারের। ভাড়া বাড়িতে থাকি। ওর একটাই চিন্তা ছিলো পড়ালেখা করে কিছু করা।’

রতন চন্দ্র তরুয়া জানান, তার একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলো হৃদয়। তাকে হারানোর পর নিজের শূন্য ঘরে একমাত্র মেয়ে, মেয়ের স্বামী আর নাতনীকে নিয়ে এসেছেন।

সন্তান হত্যার বিচার প্রসঙ্গে রতন চন্দ্র বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। তার ওপর আমার বাড়ি অনেক দূর। এখানকার কাউকে চিনি না। তাই, আমি মামলা করতে চাইনি। একজন বাদী হয়ে ২৬৫ জনকে আসামি করে একটা মামলা করেছে। কিন্তু তারা সে মামলা নিয়ে রাজনীতি করতেছে, ব্যবসা করতেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচারের পাশাপাশি যারা হত্যা মামলা নিয়ে ব্যবসা করতেছে, তাদেরও বিচার চাই।’

হৃদয় চন্দ্র তরুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র পরিবারের ছেলে হৃদয়।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। পরে ২৩ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category