মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাত ভাই এর বিরুদ্ধে বোনদেরে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আমেরিকা প্রবাসী বোন বিলকিছ হাসান।
শ্রীমঙ্গল শহরের একটি হোটেল নতুন বাজার এলকার মৃত হাফেজ মুছলে উদ্দিন এর কন্যা বিলকিস হাসান সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
বিলকিস হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার পিতা দীর্ঘ ২৩ বৎসর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। আমার পিতার শহরের বর্তমান পানসি রেস্টুরেন্ট, ষ্টেশন রোডের পেট্রোল পাম্প, শাহজিবাজার পেট্রল পাম্প ও তার পেছনের অংশ, আশিদ্রোন গ্রামে ২২ কেয়ার ফসলি জমি, পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় ১শ’ ১৪ শতক জমি, মার্কাস মসজিদ এর পেছনে ১শ’ ৫০ শতক জমি, শহরের পৌরসভার পোষ্ট অফিস এলাকায় ২ বিল্ডিংসহ প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে যান। আমরা ৪ বোন ৭ ভাই। এর মধ্যে ২ ভাই মারা গেছেন।
বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার ভাই ও মৃত ২ ভাইয়ের সন্তানদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। ভাইয়েরা আমাদের ৪ বোনকে পিতার বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে নিজেরাই অবৈধ ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মীমাংসা করার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ভানুগাছ রোডস্থ পানসী রেস্টুরেন্ট এর জায়গা মাসিক ২ লক্ষ টাকায় ভাড়া ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকায় লীজ এবং আশেপাশে দোকান ভাড়া ও জামানত এর লাখ লাখ টাকা গ্রহন করলেও আমাদের কোন অর্থ দেয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর আমরা সেই সময় পানসি হোটেলের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক এর নিকট আবেদন করি। এর প্রেক্ষিতে পানসি স্থাপনা নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ থাকার পর পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে পানসি রেষ্টুরেন্ট আবার চালু করে। গত ৪ মার্চ মৌলভীবাজার সিনিয়র জজ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করলে আদালত থেকে স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আদালতের হুকুম অমান্য কারে স্থাপনা নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে।
গত ৩ জুলাই আমি আমার ছেলেকে নিয়ে পানসি রেস্টুরেন্টের পেছনে জালালিয়া রোডের অংশে মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জমিতে যাই। বিকাল ৪ টার দিকে একজন পুলিশের এসআই নাহিদকে নিয়ে আমার বড় ভাই মফিজ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে আমাদের কাজ করতে নিষেধ করে। পুলিশ চলে যাবার পর আমার ভাই মফিজ উদ্দিন আমাদের উপর আক্রমন করে।
আমার বড় ভাই সামসুদ্দিন মারা যাবার আগে জমির ভাগ বাটোয়ারা না হওয়ায় আমাদের ৪ বোনকে পোস্ট অফিসের ২টি ভবন ও পূর্বাশা এলাকায় মৌখিক ভাবে দিয়ে রাখেন। এর একটি বিল্ডিং মার্কেট আকারে ভাড়া দেয়া হয়েছে। অপর একটি বিল্ডিং আমার ২ বোনকে দেয়া হয়। আরেক বোনকে পূর্বাশা এলাকায় একটি জায়গা বরাদ্দ করে দেয়া হয়। কিন্তু আমার ভাইয়েরা আমাকে দেয়া ভবনের একটি অংশের বেশ কয়েকটি দোকান জোর করে অন্য ব্যবসায়িদের ভাড়া দিয়ে দেয়। এ নিয়ে আমরা ওই সব দোকান ব্যবসায়ীরা আমাদের ভাড়া না দিয়ে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। এনিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির কাছে বিচার দিলেও আমার ভাইয়েরা উল্টো আমার দখলে থাকা বিল্ডিং এ অংশ দাবী করে।
আমার ভাইয়েরা আমাদের জানিয়েছেন যে, তারা মৌখিক ভাবে আমাদের বোনদের যে জায়গা দিয়েছে তা নিয়ে খুশি থাকতে। এর বাহিরে তারা কোন জায়গা দিবে না। আমি আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করি। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করে। এ কারণে আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেদের অব্যাহত হুমকির মুখে ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
একজন রেমিট্যান্স প্রদানকারী হিসেবে দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা আমি আমার নাগরিক অধিকার, সরকারী সবরকম বৈধ সুযোগ সুবিধার দাবী রাখি। তাই একজন পিতার কন্যা হিসেবে আমি আমার পিতার সম্পত্তির ন্যয় সঙ্গত অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে বিলকিস হাসানের ভাই মফিজ উদ্দিন এসব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বোনদের জায়গা রেজিষ্ট্রি ছাড়া মৌখিক ভাবে বাটোয়ারা করে দিয়েছি। সেখানেই তারা বসবাসও করছে।’