তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নীতি সুদহার কমানোর সুফল ধীরে ধীরে পাওয়া যাবে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে সুদ কমানোর পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বৃদ্ধি, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপ নেয়। এতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে সাড়ে ৮ শতাংশে নেমে এলেও নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৬০ শতাংশ পরিবারকে তাদের মোট আয়ের অর্ধেক খাদ্য কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে।
সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, নীতি সুদহার কমানোর ফলে মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়বে না। তার দাবি, দেশের মূল্যস্ফীতির বড় কারণ বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। বরং দীর্ঘদিনের উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
তবে ভিন্নমত দিয়েছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তার মতে, নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এমন বার্তা দিতে পারে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যদিও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। খাদ্য সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যা বহাল থাকলে কম সুদহার চাহিদা বাড়াবে, কিন্তু সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও তীব্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শুধু সুদহার কমানো যথেষ্ট নয়। ব্যবসার ব্যয় কমানো, সুশাসন নিশ্চিত করা, অবকাঠামো ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনর্গঠন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ