• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি

কার হাতে ফাইনালের টিকিট? স্পেনের আত্মবিশ্বাস,ফ্রান্সের ঐতিহ্য

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক / ৮৭ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

লড়াই জমবে এমবাপে-ইয়ামালেরও

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অতীতের সাফল্য কিংবা বর্তমান ফর্ম-কোনোটিই একা জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না! তবে বড় ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ফলাফল এবং দুই দলের ইতিহাস সব সময়ই বাড়তি আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মঙ্গলবার রাতে স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হওয়ার আগে ঠিক এমনই এক সমীকরণ সামনে এসেছে।

কাগজে-কলমে সাম্প্রতিক সময়ের হিসাব স্পেনের পক্ষে, কিন্তু বড় আসরের স্মৃতি এখনো ফ্রান্সকে আলাদা মর্যাদা দেয়। ফলে ডালাসে মঙ্গলবারের লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিটের জন্য নয়, দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির আধিপত্যেরও নতুন পরীক্ষা।

স্পেন ও ফ্রান্সের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। দুই প্রতিবেশী দেশের এই লড়াই কয়েক দশকের পুরোনো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরো, নেশনস লিগ এবং এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিয়মিত দেখা হওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। মাঠের উত্তেজনার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে কথার লড়াইও। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দুই শিবিরে!

মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে অবশ্য এগিয়ে স্পেন। এখন পর্যন্ত দুই দল ৩৮ বার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি! বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে স্পেন এগিয়ে থাকলেও বড় মঞ্চের গল্পটা কিছুটা আলাদা।

যখন শিরোপা কিংবা নকআউটের চাপ এসেছে, তখন কয়েকবার শেষ হাসি হেসেছে ফ্রান্স। ১৯৮৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্পেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফরাসিরা। প্রায় চার দশক পর ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তোলে তারা। বিশ্বকাপেও নকআউট পর্বে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স।

তবে সময় বদলেছে, বদলেছে দুই দলের শক্তির ভারসাম্যও। গত দুই বছরে ইউরোপিয়ান ফুটবলে স্পেনের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সেই উত্থানের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে ফ্রান্স। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর ২০২৫ সালের নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচেও ফরাসিদের হারিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অর্থাৎ সাম্প্রতিক দুই নকআউট লড়াইয়েই জয় স্পেনের।

সর্বশেষ পাঁচ দেখার হিসাবও বেশ সমানে সমান। ২০১৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। তিন বছর পর ২০১৭ সালে একই ধরনের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পালা ছিল স্পেনের। এরপর ২০২১ সালের নেশনস লিগ ফাইনালে ফ্রান্স জিতলেও পরের দুই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আবারও স্পেন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে!

তবে পরিসংখ্যানের এই লড়াই মাঠের বাস্তবতা পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ বর্তমান ফ্রান্স আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে তাদের আক্রমণভাগ টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল ভয়ংকর। অন্যদিকে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত দলগত ফুটবল, বলের দখল ধরে রাখার দক্ষতা এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণ।

এই কারণেই ম্যাচটিতে স্পষ্ট কোনো ফেভারিট খুঁজে পাওয়া কঠিন। একদিকে সাম্প্রতিক সাফল্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন, অন্যদিকে বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাসকে সঙ্গী করছে ফ্রান্স। ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে থাকা এই দুই পরাশক্তির সামনে এখন একই লক্ষ্য-বিশ্বকাপের ফাইনাল।

শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কি আবারও বড় ম্যাচে ফ্রান্সের পক্ষে কথা বলবে, নাকি সাম্প্রতিক আধিপত্য ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো ফরাসিদের হারাবে স্পেন-এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ডালাসের ৯০ মিনিটেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, অতীতের পরিসংখ্যান যতই একেক দিকে ইঙ্গিত করুক, মাঠের লড়াইয়ে সামান্য ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো ইতিহাস!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category