মৌলভীবাজারে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড। তলিয়ে গেছে সড়ক, বাড়িঘরে ঢুকেছে পানি। দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলায় মনু, ধলাই, জুড়ি, কন্টিনালাসহ ছোট বড় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলাম পুর ও আদমপুর ইউনিয়নের ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের কারণে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফসলি জমি। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও খাল উপচে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে।কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কারণে অনেক পরিবার দুপুরে রান্না করতে পারেনি। নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ কর্মস্থলেও যেতে পারেননি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজে পানি ৫৫ সেন্টিমিটার, মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার, ধলাই নদী রেলওয়ে ব্রিজে পানি ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার ও জুড়ী নদীর পানি ৩৩ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় মৌলভীবাজার জেলায় ৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানান তারা। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ধলাই নদের বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।’

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বাড়ছে। নদীর বাঁকগুলোতে কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকজন আছে। এবং আমাদের প্রস্তুতিও আছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’