• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৬৬ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে ইরানের ওপর আবারো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এসব হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানও ছিল, যেগুলো হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করছিল।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান এ ঘটনার জবাবে “কঠোর ব্যবস্থা” নেবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কেশম দ্বীপ, বান্দার আব্বাস এবং সিরিক এলাকায় হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সেন্টকম জানায়, ছোট নৌযানগুলোর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তুগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বলেছিল, তিনটি ট্যাংকারে যেসব হামলা হয়েছে, সেগুলো “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং এর পরিণতি ইরানকে ভোগ করতে হবে।

সেন্টকমের ভাষ্য, বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত নিরীহ নাবিকদের আন্তর্জাতিক জলসীমায় লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য ইরানকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানের এই আগ্রাসন ছিল অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

হামলার আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার যে অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল করে।

এই অনুমতির মাধ্যমে ইরান তেল ও জ্বালানি পণ্য বিক্রি করতে পারছিল। এটি গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে জানায়, এতে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র “অসৎ, অসঙ্গত এবং অবিশ্বাসযোগ্য”।

তাদের বক্তব্য, দেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে।

সেন্টকম নতুন হামলার ঘোষণা দেওয়ার আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে “সদিচ্ছা নিয়ে” আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

এদিকে কাতার ও সৌদি আরবও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশই দাবি করেছে, তাদের একটি করে তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে বা এর কাছাকাছি চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়েছে এবং এর জন্য তারা ইরানকে দায়ী করেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, আল-রেকাইয়াত নামের একটি কাতারি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য ইরানই সম্পূর্ণ দায়ী।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, কাতার ইরানকে অবিলম্বে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং সংকীর্ণ স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পদকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে আহ্বান জানাচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াদিয়ান নামের সৌদি ট্যাংকারটিও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

তাদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি আঘাত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি কাতারের অভিযোগকে “সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির পরিপন্থী” বলে মন্তব্য করেন।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে নির্ধারিত পথ ব্যবহার করে বা নিজেদের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য (ট্র্যাকিং) পরিবর্তন করে, সেগুলো সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে।

ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়।

সংস্থাটি আরও জানায়, মঙ্গলবার দুটি পৃথক ঘটনায় একটি ট্যাংকার প্রণালি ছেড়ে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হলেও পরে নিরাপদে গন্তব্য বন্দরের দিকে যেতে সক্ষম হয়। আরেকটি ট্যাংকারেও হামলা হয়, তবে সেটির সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

১৪ দফার ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটবে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে। তবে এই অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রাখা বাধ্যতামূলক নয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী দেশ ইরান ও ওমানকে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে এই জলপথের প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও গ্যাস সাধারণত এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।

সংঘাত চলাকালে ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব জোরদারের চেষ্টা করে। এ জন্য তারা “পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি” নামে একটি সংস্থা গঠন করে, যা “নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতিপত্র” (Safe Passage Permit) পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বলে জানানো হয়।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান পরিচালনা করবে। এর অংশ হিসেবে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে সেবা ফি (Service Fee) আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category