• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

নিয়মিত বিল, তবু মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৩ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২-এর টানপাড়া পশ্চিমপাড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আর সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; এটি হাজারো মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। গত প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)-এর আওতাধীন ZT100 নম্বরের ট্রান্সফরমারটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত লোড বহন করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিনের যেকোনো সময়, এমনকি গভীর রাতেও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন এলাকাটির নিয়মিত চিত্র।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে অসংখ্যবার ডেসকোর হটলাইনে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবার কারিগরি কর্মীরা এসে সাময়িকভাবে সংযোগ সচল করলেও কয়েক ঘণ্টা কিংবা এক দিনের মধ্যেই আবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফলে সাময়িক মেরামতের এই চক্রে আটকে আছে পুরো এলাকা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত কয়েক বছরে টানপাড়া পশ্চিমপাড়ায় দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে। বহুতল ভবনের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে জনসংখ্যা এবং বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহারও। কিন্তু সেই অনুপাতে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, ZT100 ট্রান্সফরমারটি দীর্ঘদিন ধরেই তার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড বহন করছে। ফলে সামান্য চাপ বাড়লেই সেটি ট্রিপ করে বা বিকল হয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হ্যাভেন বলেন, “দুই বছর ধরে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছি। কখন বিদ্যুৎ চলে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষদের নিয়ে গরমে রাত কাটানো খুবই কষ্টকর। আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাই না। অভিযোগ করলে সাময়িক সমাধান হয়, এরপর আবার একই অবস্থা।”

আরেক বাসিন্দা মতিউর রহমান স্বপন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকা এখন আমাদের এলাকার নিয়মিত ঘটনা। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, গরমে বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না; শুধু স্থায়ী সমাধান চাই।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। ছোট দোকান, সেলুন, দর্জির কারখানা, ফটোকপির দোকানসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালানো যায় না, ফলে অনেক সময় পুরো এলাকায় পানির সংকটও দেখা দেয়।
বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। রাতের পড়াশোনার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক শিক্ষার্থী চার্জার লাইট, মোমবাতি কিংবা মোবাইল ফোনের আলোয় পড়তে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবারের পক্ষে বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।

এদিকে চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর সময়ও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। তাঁদের ভাষায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ-বিনোদনও ব্যাহত করছে।

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, “রাজধানীর একটি এলাকায় একই সমস্যার সমাধান দুই বছরেও না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে—এটি ডেসকোর অজানা থাকার কথা নয়। তাহলে সময়মতো ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা কেন বাড়ানো হলো না? বর্তমান ZT100 ট্রান্সফরমারটি এলাকার বিদ্যমান লোড বহন করতে পারছে না। তাই বারবার সাময়িক মেরামত করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনই হবে কার্যকর সমাধান।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাক্কের হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বৃদ্ধি বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে যা যা করণীয়, তা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করা হবে।”
বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্টদের মতে, সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে বর্তমান ZT100 ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, প্রয়োজনে ফিডার লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত লোড অডিট পরিচালনা জরুরি।

টানপাড়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এবার যেন সাময়িক জোড়াতালির পরিবর্তে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা চান না; নিয়মিত বিল পরিশোধকারী গ্রাহক হিসেবে চান শুধু নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা। রাজধানীর একটি এলাকায় বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিদ্যুৎ–দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category