• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বর্তমান বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক / ৯৮ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

 ফাইল ছবি
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান চরম অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নতুন করে আরও ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থার ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ১৫ মে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই বিশেষ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির আন্তর্জাতিক বিল ও মূল্য পরিশোধে সরাসরি সহায়তা করা হবে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা এবং সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।
এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর।
এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে এবং পেট্রোবাংলার আমদানি বিল পরিশোধ সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনার নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত চুক্তির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ করবে। স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষ এই অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)-সমর্থিত একটি পেমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ক্রেডিট লাইনের সহায়তায় এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যা বাংলাদেশকে বাজারের যেকোনও আকস্মিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নমনীয়তা দেবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ জুন বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় মূল ৩৫ কোটি ডলারের ‘এনার্জি সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ অনুমোদন করা হয়েছিল, যার বর্তমান মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা আছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে এই বিষয়ে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশকে বর্তমানে একটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই বিশ্বব্যাংক এই তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনার্জি বিশেষজ্ঞ ও এই প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ওলাইয়িঙ্কা আদেবেরি বলেন, ‘অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় গ্যাস তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী। তাই এলএনজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’ পাশাপাশি এই প্রকল্প ব্যয়বহুল তরল জ্বালানি বা ফার্নেস অয়েল আমদানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category