• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

“ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মা: উখিয়ায় ‘হা হা’ রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত সংঘর্ষ”

রিয়াজ উদ্দিন: কক্সবাজার প্রতিনিধি / ৪২ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

* ‘মায়ের মৃত্যুর বদৌলতে কবরস্থানে আসার সুযোগ পেয়েছি

উখিয়ার টাইপালংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘হা হা’ রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ছৈয়দা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের ছেলে এস এম ইমরান অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের পরিবারকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছিল।
রোববার (১৭ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং পারিবারিক কবরস্থানে ছৈয়দা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের চোখে ছিল শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের ছাপ।
মায়ের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এস এম ইমরান বলেন,
“৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমি বাড়ির বিদ্যুতের খুঁটির ওপার পর্যন্ত যেতে পারতাম না। মা সবসময় নিষেধ করতেন। একের পর এক মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানি করা হয়েছে। গতকাল তারা আমার ওপর হামলে পড়লে, মা আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন। এই মৃত্যুর বদৌলতেই আজ কবরস্থানে আসার সুযোগ হয়েছে আমার।”
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে টাইপালং এলাকার ছাত্রদল নেতা পরিচয়ধারী জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেন ইউনুস নামের এক যুবক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় একটি এনজিওতে কর্মরত এস এম ইমরান তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এসময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মা ছৈয়দা বেগম। হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ছৈয়দা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
ঘটনার পর পুলিশ ইউনুসকে হেফাজতে নিলেও হামলার অভিযোগে বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পরে ছাড়া পেয়ে ইউনুসসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, “এই পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড জিসান। ৫ আগস্টের পর থেকে টাইপালংসহ পুরো উখিয়ায় সে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। কখনো সমন্বয়ক, কখনো ছাত্রদল, আবার কখনো বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, উখিয়া উপজেলা বিএনপির কোনো বৈধ সাংগঠনিক পদে জিসানের নাম না থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। সেই ক্ষোভের জের ধরেই শনিবারের ঘটনার বিস্ফোরণ ঘটে বলে মনে করছেন অনেকে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি কক্সবাজার জেলার মুখপাত্র জিনিয়া সারমিন রিয়া ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এস এম ইমরান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর নির্যাতনের শিকার ছিলেন। মিথ্যা মামলার ভয়ে তিনি পরিবার থেকেও দূরে থাকতেন। শনিবার শিশুসন্তানকে দেখতে বাড়িতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান মা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ইমরানকে রাজনৈতিকভাবে ‘ছাত্রলীগের দোসর’ হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চলছে, যদিও তিনি একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category