মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সবুজাভ ও হালকা সোনালি আভায় সেজেছে ফসলের মাঠ। জমির পাকা ধান কেটে নিরাপদে গোলায় তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষকরা। তবে জ্বালানি ও শ্রমিকের চড়া বাজারের কারণে লাভের মুখ দেখার মতো ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন কিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত তারা।
জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকদের। বিশেষ করে সেচের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় হাওর এবং নন হাওরে মিলে এবার পুরো জেলায় ৬২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার কুরাউড়া’র হাকালুকি হাওর অংশে ১২ হেক্টর ও জুড়ী উপজেলায় আরও ১৫০ হেক্টর জমির ধান জলে তলিয়ে গিয়ে পুরোধমে নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওলে প্রায় ২৮ হেক্টর অল্প ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। একইভাবে মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, কড়াইয়া হাওর, বড় হাওরসহ জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাওর এলাকাগুলোর মানুষ এখন বোরো ফসল ঘরে তোলার প্রতীক্ষায়।
অনেকে ধান কাটা ও মাড়াই করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে মনু প্রকল্পের আওতাধীন কাউয়াদীঘি হাওরের পানি কাশিমপুর পাম্প হাউসের মাধ্যমে সেচ দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে ফেলতে না পারায় নিচু এলাকায় ধান নিমজ্জিত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ কাজ করা যাচ্ছে না।
হাওর এলাকার কৃষক আব্দুল করিম জানান, এ বছর ১০ কিয়ার জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ফসল ভালো হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ছড়ার সঙ্গে পানি লেগে গেছে। কাশিমপুর পাম্প হাউস ঠিকভাবে পানি সেচ না দেওয়ায় বিপদে পড়েছেন।
কাউয়াদীঘি হাওরপারের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, “এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু সার, বীজ, জ্বালানি আর শ্রমিকের খরচ এত বেশি যে ধান বিক্রি করে লাভ হবে কিনা বুঝতে পারছি না। সরকার যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে, তাহলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।”
স্থানীয় বোরোচাষিরা জানান, হাওরের পানি কমছে না। “ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। যারা আসে তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি মজুরি চায়। আবার বাজারে ধানের দাম কম থাকলে খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।”
হাওর রক্ষা আন্দোলন সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, মনু ও কুশিয়ারার পানি কাউয়াদীঘি হাওরের পানির লেভেলের অনেক নিচে মনু প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউস কেন সময় সচল রাখা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। আড়তে এ বছর ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিল অলীদ বলেন, কাশিমপুর পাম্প হাউজ চালুসহ ব্যারেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। পাম্প হাউজ সব সময় মনিটরিং মনিটরিং রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে ছিল আমাদের সেই লক্ষ্যমাত্রা ধান আবাদ অর্জিত হয়েছে। আমাদের হাওর এলাকায় হাওড়া এলাকায় ৫% ধান পাঁকায় পুরোধমে কাটা শুরু হয়েছে। আমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, কাশিমপুর পাম্প হাউজ রয়েছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড।